জাতি বিদ্বেষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতি বিদ্বেষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

উগ্র জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণ পরিসরে দুর্বল হচ্ছে শ্রেণী সংগ্রাম


একটা সময় ছিল, ষাট-সত্তরের দশক অবধি, যখন আন্তর্জাতিকতাবাদ একটি জোরালো রাজনৈতিক প্রবণতা ছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধের অপরাধীদের আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে সাজা পাওয়ার কথা এমনি এমনি ওঠেনি। রাস্তার আন্দোলনের মধ্যে থেকে একটা সম্মিলিত চীৎকার হয়ে উঠেছিল। শুধু যুদ্ধবাজ আমেরিকার রাস্তায় জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকেই সে আওয়াজ ওঠেনি, আমাদের মত গরিব দেশের রাস্তা থেকেও সে আওয়াজ প্রত্যয়ের সাথে উঠেছিল। আমার নাম, তোমার নাম, ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম। এ আমরা, আশির দশকের সন্তানরা, ছোটবেলায় নানা লোকের মুখে শুনে ফেলেছি। সত্যজিৎ রায়ের "প্রতিদ্বন্দ্বী"-র ইন্টারভিউ সিনে বেকার যুবকের ভিয়েতনাম যুদ্ধের গুরুত্বকে মানুষের চাঁদে যাওয়ার ঘটনার গুরুত্বের থেকে বড় করে দেখতে শিখেয়েছিল সে এক রাজনীতি। ওই দৃশ্যটা দেখার অনেক আগে, বা প্রলেতারিয়েতের আন্তর্জাতিকতাবাদের রাজনৈতিক তত্ত্ব/প্রয়োগ সম্পর্কে জেনেবুঝে ওঠার অনেক আগেই আমরা, আশির দশকের বাচ্চারা, শিখে গেছি যে আমরা এ দেশের মানুষ হওয়ার কারণে স্বাভাবিক ভাবেই ভিয়েতনামের যুদ্ধ-আক্রান্ত মানুষের পক্ষে ছিলাম, আমরা চিরকাল প্যালেস্তাইনের যুদ্ধ-আক্রান্ত মানুষের পক্ষে ছিলাম। আমরা আমেরিকার ব্লকেড আক্রান্ত কিউবার পক্ষে ছিলাম। রুশ বিপ্লব কী তা জানার আগেই আমরা, তখনকার ছোটরা, সোভিয়েতকে ভালবাসতাম। বাংলা অনুবাদে সোভিয়েত লেখক আর কবিদের পড়তে পেতাম। অত দূর সোভিয়েত দেশ থেকে অমন যত্নে তৈরি করা এত ছোটদের বই কীভাবে জানি বাড়িতে পৌঁছে যেত, বইমেলায় পাওয়া যেত। আন্তর্জাতিকতাবাদের ধারণা মগজে ঢোকার অনেক আগেই আমরা হাতেনাতে এর সহজ, স্বাভাবিক উপস্থিতি টের পেয়ে যেতাম।


নিছক আশির দশকের নস্টালজিয়া ঢেঁকুর তোলার জন্য এটা বলা নয়। সরলীকরণ করে বলার জন্যও এটা নয়। সরলীকরণ করা ভুল হবে, কারণ এ সবের মধ্যেও স্থানীয় জাতীয়তাবাদের একটা শিকড় আগাগোড়া ছিল। তাই, ভিয়েতনাম, কিউবা, রাশিয়া, প্যালেস্তাইন সম্পর্কে এই অবস্থানগুলো থাকা সত্ত্বেও আমরা চীন ভারত যুদ্ধের সময় জেনে বুঝে অবস্থান নিতে শিখিনি। আমরা কোনদিনই কাশ্মীরের মানুষের পক্ষ নিতে শিখিনি। আমাদের কাশ্মীর সম্পর্কে স্বাভাবিক ভাবে জানা বোঝার কোনও উপায় ছিল না। মাধ্যমিক বোর্ডের দেওয়া ভারতের মানচিত্রে ম্যাপ-পয়েন্টিং করার সময় আমরা সেই মানচিত্রকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে জানতাম না। এই গুরুত্বপূর্ণ কথাটা মাথায় রেখেও বলা যায়, যে এক জোরালো আন্তর্জাতিকতাবাদ তখনও ছিল। প্যালেস্তাইন নিয়ে কথা বললে, "বিশ্বমানব" বলে কটাক্ষ করাটা তখন একেবারেই আনকুল ছিল।


শ্রম এবং পুঁজির দ্বন্দ্বকে রাজনীতির পরিসর থেকে যত বেশি বেশি করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তত আমার সমস্যার সমাধান যে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানের সাথে জড়িত থাকতে পারে, এবং আমার সমস্যা যে অনেক অংশে আসলে বৈশ্বিক ফাটকা পুঁজির মহাঘোঁট থেকে উদ্ভুত, এই বোধও চলে গেছে। এখনকার ‘স্বাভাবিক’ বোধটাও তাই খানিকটা এরকম। সব সমস্যাই হয় কেবল আমার, নয় কেবল আমার গোষ্ঠীর, কেবল আমার খন্ডিত আইডেনটিটির, কেবল আমার স্থানিক চারপাশের। শুধু এই বোধে বলীয়ান হয়েই দীর্ঘ ইতিহাসের চাকা উল্টোদিকে ঘুরিয়ে ফেলে ভূমিপুত্র রাজনীতি বা আইডেন্টিটির রাজনীতি আগের রাজনীতির ফাঁকফোঁকরগুলো বুজিয়ে নিটোল সমাধান এনে দেবে বলে আজকে মনে করা হচ্ছে।


এই ভাবে ভেবেই আসাম বা শিলং থেকে বংগালি খেদাও থেকে শুরু করে মুম্বাইয়ের বিহারি খেদাও। নিজের ভাষা, সংস্কৃতি, শিকড় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সবসময় অমূলক নয়। কিন্তু তার সমাধান কাঠামোগত ভাবে না খুঁজে সবচেয়ে দুর্বল অভিবাসী মানুষকে বিতারণ করে বা ভয় দেখিয়ে ‘সাইজ’ করে কোনওদিন আসেনি। আসার কথাও নয়। মজার ব্যাপার হল এর ফলে আসাম থেকে অধিকাংশ বাঙালি বা মুম্বাই থেকে অধিকাংশ বিহারিকে তাড়ানো যায়নি। কিন্তু, যেটা করা গেছে তাহল রাজনীতির পরিসর থেকে অন্যান্য কাজের কথাগুলোকে সরিয়ে ফেলা গেছে। যাতে বিহারি শ্রমিকের যেমন ক্ষতি হয়েছে, মারাঠি শ্রমিকেরও লাভ হয় নি। বাঙালি কৃষকের যেমন ক্ষতি হয়েছে, অসমিয়া কৃষকেরও লাভ হয় নি। এটা ভাষা অক্ষের রাজনীতির ক্ষেত্রে, অন্যান্য অক্ষের ক্ষেত্রেও ঠিক। তাই ইতিহাসে যাই ঘটে থাকুক না কেন, মধ্যবিত্ত কাশ্মীরি পন্ডিতদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে, পন্ডিতদের যেমন ক্ষতি হয়েছে, ততোধিক ক্ষতি হয়েছে কাশ্মীরি মুসলমানদের। এই ক্ষতগুলো দগদগে ঘা হয়ে নতুন রাজনীতি খোঁজার সম্ভাবনাকে মলিন করেছে। কোথাও সমৃদ্ধ করেনি।

এখন বাংলায় যে নব্য বাঙালি জাতীয়তাবাদি রাজনীতির আমদানি হয়েছে, সেটা আমাদের দেশের সহ গোটা বিশ্বের এই সময়ের ফসল। এখন ব্রেক্সিটের ব্রিটেন থেকে আমেরিকা, ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড – সঙ্কীর্ণতম জাতীয়তাবাদ, অভিবাসী শ্রমিক বিরোধিতা ও ভূমিপুত্র রাজনীতির যুগ। ঠিক যেভাবে নব্বইয়ের দশকে আমরা বড় বাঁধ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ ও তাঁদের ঠিক করে দেওয়া ‘উন্নয়নের’ রাজনীতি-র বিরোধিতা করার বদলে, পরিবেশের রাজনীতি নিয়ে ভাবার বদলে রাজ্যে রাজ্যে, দেশে দেশে জল-ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি করে সবাই মরেছি। খানিকটা তেমনই আজকে যখন চাকরি ছাঁটাই মহামারী হয়ে উঠেছে। আজকে যখন মানুষের হাতের পয়সা বড় পুঁজিপতিদের হাতে চলে গেছে। তখন আমরা ভাবছি এই সংকটের উত্তর হল, আমার বেঁধে দেওয়া গন্ডিটুকুর মধ্যে তার বাইরে থেকে আসা শ্রমিককে কাজ করতে দেব না। আমার ভাষাকে বাঁচাতে হলে আমাকে অন্য ভাষার শ্রমিককে তাড়াতে হবে। আমার সংস্কৃতিকে বাঁচাতে হলে আমার ক্রোধের অভিমুখ হবে অন্য সংস্কৃতির ছাপোষা লোক। এই ধরনের সহজ টার্গেটের ওপর সংখ্যাগুরুর “জনরোষ”-এর একটা মাদকতা আছে বোধহয়। তাই কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছে, করছে। কিন্তু অনেকেই চুপ করে সাপোর্ট দিচ্ছে। একই সাথে আসামে এনআরসি-র বিরোধিতা করব, আবার এখানে সেই একই যুক্তিক্রমের রাজনীতি করব, দু’টোই কিন্তু চলছে। কারণ ভূগোলের সাথে বিষয়ী পাল্টে যাচ্ছে। “এখানে তুমি সংখ্যালঘু, ওখানে তুমি জমজমাট”। কিন্তু এসবের মধ্যে যেটা সুন্দর করে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা হল শ্রম আর পুঁজির দ্বন্দ্ব। রাষ্ট্র আর মানুষের দ্বন্দ্ব। এই বিষাক্ত রাজনীতি রোখার দায় ধর্মীয়, ভাষিক সংখ্যাগুরুর ওপর বেশি করে বর্তায়। সমস্যাগুলোর সমাধান সবাইকেই খুঁজতে হবে, তবে এই পথে নয়।

যুদ্ধ ও উগ্র দেশপ্রেমের জিগির তুলে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের ভোটের বাজার দখলের লড়াই কে পরাস্ত করুন


ভাঙচুর চলছে, দেশপ্রেমের ভাঙচুর। সেই পুরানো চাল ভাতে বাড়ছে শাসকশ্রেণী আর গোগ্রাসে তা চেটেপুটে খাচ্ছে আমাদের দেশপ্রেমের নেশায় আচ্ছন্ন সাবর্ণ শহুরে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকেরা। যুদ্ধ চাই, ভীষণ যুদ্ধ চাই তাদের, আর যুদ্ধের তর সইছে না, অবিলম্বে যুদ্ধ চাই। পাকিস্তানের লাশ দেখে তবেই এবার নাস্তা পানি খাবেন কর্তারা, তাই ফেসবুক, টুইটার সহ নানা সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। 

পুলওয়ামা হামলা হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধের জিগির একদম ছাদ ভেদ করে আকাশে পৌঁছে যেতে চায়। তাই চিৎকার — যুদ্ধ চাই, যুদ্ধ চাই। যুদ্ধ না হলে তো আর হিসেব নিকেশ হবে না, নিরামিষাশী মোদী ভক্তদের রাতের পনীর মশালা হজম হবে না, সকালে পরিষ্কার মলত্যাগ হবে না। তাই যুদ্ধ চাই, রক্তে স্নাত মাটি দেখেই আজ চোখ জুড়াবে ভক্তকুলের। 

তাই সেই ভারত যখন চীন আক্রমণ করে ১৯৬২ সালে তখন যেমন চিনা বাদাম ওয়ালা কে গড়ের মাঠে ফেলে পেটাতো কংগ্রেস দলের গুন্ডারা বা মহিলাদের লাল ব্লাউজের উপর ব্লেড চালাতো, বা কমিউনিস্টদের বন্দী করে জেলে রেখে অত্যাচার করতো, তেমনি আজ কাশ্মীরি মানুষ, যাদের জমি কে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করে দেশপ্রেমিকদের দল, তাদের দেখতে পেয়েই রে রে করে তেড়ে মারতে যাচ্ছে গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা দেশপ্রেমিক বাছুরের দল, স্লোগান তাদের “জ্যায় সিরি রাম” আর হাতে তাদের ধারালো অস্ত্র। 

খুঁজে খুঁজে আক্রমণ করা হচ্ছে কাশ্মীরি ছাত্র-ছাত্রীদের, ব্যবসায়ীদের, এমনকি প্রসিদ্ধ ডাক্তারদের। হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ধরে পেটানো হচ্ছে, দেরাদুন, জম্মু প্রভৃতি জায়গায় কাশ্মীরি মানুষদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আর লাগানো হচ্ছে দেশদ্রোহীর তকমা। এই আক্রান্ত মানুষদের, যারা ওই মৃত জওয়ানদের মতন যুদ্ধ করতে গিয়ে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হননি, বরং নিজের জীবনযাপনের তাগিদে, লেখাপড়া শেখার তাগিদে, চাকরী করার তাগিদে নিজ ভিটে মাটি ছেড়ে ভারতের নানা কোনায় পড়ে আছেন হৃদয়ের এক কোণে একটুকরো কাশ্মীর কে লালন করে, তাদের রক্ষা করতে যে বা যারা এগিয়ে এসেছেন তারাও আক্রান্ত হয়েছেন বিবেচনাহীন, ফ্যাসিবাদের গরল পান করা উগ্র দেশপ্রেমিক নামক সংঘ পরিবারের সন্ত্রাসীদের  হাতে। 

যে বা যারা করেছে যুদ্ধের বিরোধিতা তারা আজ দেশদ্রোহী, যে বা যারা ভারত রাষ্ট্রের কাশ্মীরের উপর সামরিক দখলদারি’র বিরোধিতা করছে তারা দেশদ্রোহী, যারা আজ সাধারণ মানুষের উপর দেশপ্রেমের লেবেল আঁটা হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের বিরোধিতা করছে তারা আজ দেশদ্রোহী হিসেবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের পোষ্য বাহিনীর কাছে চিহ্নিত হচ্ছে। আর এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ যে ভাল আছে তা কিন্তু মোটেই নয়। 

যুদ্ধের বিরুদ্ধে, সেনা নিয়ে নির্লজ্জের মতন রাজনীতি করার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বিরুদ্ধে মুখ খোলায় পশ্চিমবঙ্গেও হাজারে হাজারে গেরুয়া বাহিনীর জওয়ান’রা আক্রমণ করছে মুক্ত চিন্তার মানুষদের, বামপন্থীদের এবং অন্যান্য সকলকেই যারা রক্ত চাই, রক্ত চাই বলে চিৎকার করছে না। আক্রান্তদের বাঁচাতে গড়ে উঠছে না কোন বিপ্লবী ফ্যাসিবিরোধী ব্যারিকেড, আর তাই এই একের পর এক হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট আক্রমণে জর্জরিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের প্রগতিশীল চেতনার মানুষ।

বনগাঁ থেকে হাওড়া, কলকাতা থেকে সুদূর রানীগঞ্জ সর্বত্রই হিন্দুত্ববাদী শক্তি নিজের পেশীর জোর দেখিয়ে ভোটের আগে বাজার গরম করতে নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও বা আশ্বাস দিয়েছেন যে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করবে তাঁর সরকার কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা যে ফাঁকা বুলি সবাই জানে। তৃণমূলের পৃষ্টপোষকতা ছাড়া বিজেপি ও আরএসএসের এই রাজ্যের বুকে এই ভাবে বুক বাজিয়ে মানুষের বাড়িতে শয়ে শয়ে গুন্ডা নিয়ে গিয়ে আক্রমণ করা সম্ভব হতো না। 

সামনে লোকসভা নির্বাচন আর এই সময়ে এই রকম ভাবে উগ্র দেশপ্রেমের উদ্দীপনা সৃষ্টি করে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অন্যায়গুলো কে চাপা দিয়ে দেওয়ার সুযোগ কি আর কেউ খোয়াতে চাইবে, যখন সেই অন্যায় নীতির ফলে দেশের অর্থনীতি গত পাঁচ বছরে এমন গড্ডালিকায় গিয়ে ঢুকেছে যে তার বেরিয়ে আসা দুস্কর? 

তাই ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিম নিধন যজ্ঞ শুরু করার আগে নরেন্দ্র মোদী যে ভাবে লক্ষ লক্ষ ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের সাহায্যে গোধারা রেল স্টেশনে আগুনে পুড়ে মৃত ৫৬ জন আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীদের মৃতদেহ দাহ না করতে দিয়ে আহমেদাবাদে নিয়ে এসে সারা শহর প্রদীক্ষণ করিয়ে সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক অভীষ্ট অর্জন করেছিলেন, ঠিক সেই ভাবেই  ছকটা আবার তৈরী করা হচ্ছে। 

প্রতিটি মৃত জওয়ানের পরিবারের সম্মতি ছাড়াই বিজেপি তাঁদের মৃতদেহ নিয়ে বিশাল বিশাল মিছিলের আয়োজন করেছে। না, তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে নয়, বরং এই সুযোগে মুসলিম-বিরোধী বিদ্বেষের বীজ কে চারায় রূপান্তরিত করতে, কাশ্মীরের মাটিতে ভারতের শাসকশ্রেণীর দ্বারা নিষ্ঠুর ভাবে জনগণ কে অত্যাচার ও শোষণ করার কাজে সমর্থন আদায়ের স্বার্থে, আগামী নির্বাচনে মোদী ও বিজেপি কে আতঙ্কের থেকে ভোট দেওয়ানোর স্বার্থে এই মিছিলগুলি’র আয়োজন করা হয়েছে। এই মিছিলগুলি সিআরপিএফের নিহতদের শেষ যাত্রার মিছিলের জায়গায় গণতন্ত্রের অবশিষ্টের অন্তর্জলি যাত্রা হিসেবে বেশি কুখ্যাতি অর্জন করেছে। 

যত বেশি করে লাশ নিয়ে মিছিল বিজেপি ও আরএসএস করছে, তত বেশি করে দেশের প্রান্তে প্রান্তে কাশ্মীরি মানুষদের উপর বেছে বেছে হামলা করা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে মুসলিম মানুষদের বেছে বেছে হামলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তেরঙা ঝাণ্ডা নিয়ে মিছিল করে, পাকিস্তান কে গাল পেড়ে আসলে দেশজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষের আগুনে হাওয়া দিয়ে নির্বাচনের আগে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করতে চাইছে বিজেপি ও মোদী সরকার। সারা দেশের সংখ্যাগুরু হিন্দু সমাজের মধ্যে তীব্র ভাবে কাশ্মীরি মানুষদের ব্যাপারে ও মুসলিম জনতার ব্যাপারে যে ভীতি গেড়ে বসে আছে তার আঁচে হাওয়া দিয়ে নিজের নির্বাচনী স্বার্থসিদ্ধি করে নেওয়াই এখন রাফ্যাল থেকে নীরব মোদী কাণ্ডে জর্জরিত বিজেপি’র অভিলাষ। এই অভিলাষ চরিতার্থ করতে বিজেপি ও আরএসএস কিন্তু যে কোন সীমা ছাড়িয়ে নোংরামো করতে পারে আর তা বুঝতে হলে আপনাকে রাজনীতি নিয়ে পিএইচডি করতে হবে না। 

প্যাটার্নটা কিন্তু সেই একই। জায়গায় জায়গায় কাশ্মীরি মানুষদের উপর আক্রমণের প্যাটার্নটা এক, আক্রমণের সমর্থনে সিআরপিএফের জওয়ানদের মৃত্যুর যুক্তি ব্যবহার করে অপরাধটাকে ঢাকার চেষ্টা চলছে। সেই ২০০২ সালে যেমন মোদী নিউটনের তৃতীয় নিয়ম উল্লেখ করে বলেছিলেন যে গুজরাটে মুসলিম নিধন যজ্ঞ আসলে গোধারা কাণ্ডের “রিয়্যাকশন” মাত্র, তেমনি আজ সাম্প্রদায়িক হিংসা কে, গণতন্ত্র-বিরোধী হিংসা কে জনগণের রোষ বলে চালানোর চেষ্টা করছে বিজেপি ও আরএসএস। 

দেশের সব বড়-ছোট সংবাদ মাধ্যমের মুখে কাপড় গুঁজে তাদের কোন ধরণের সরকারের সমালোচনা করতে দেওয়া হচ্ছে না। মোদী’র পদলেহী সব সংবাদ মাধ্যম যুদ্ধং দেহি মনোভাব নিয়ে এমন এক আলোচনা চালাচ্ছে যার সব দিকেই যুদ্ধ কে, হিংসা কে কাশ্মীরের মতন একটি জটিল সমস্যার সমাধান হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এ এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। সংখ্যালঘু মানুষরা, বিজেপি বিরোধীরা আর হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদ-বিরোধীরা যে কেউ এই আক্রমণের শিকার হতে পারেন।

আর এই হট্টগোলে কেউ একবারও জিজ্ঞাসা করার সাহস পাচ্ছে না যে পুলওয়ামায় সিআরপিএফের জওয়ানদের উপর আক্রমণ কাদের ব্যর্থতায় হলো? কে এর দ্বায়িত্ব স্বীকার করছেন? কে পদত্যাগ করলেন? কেন মোদী সরকারের কাশ্মীর নীতি কাশ্মীর কে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিল?   

দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে কাশ্মীরের সমস্যা কে নিজ রণনৈতিক কারণে জিইয়ে রেখেছে ভারতের শাসকশ্রেণী। স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের মানুষের সাথে গণভোট নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতারণা করার পরেই কিন্তু বিদেশী শক্তির অনুপ্রেরণায় ১৯৮৯ সাল থেকে জঙ্গী আন্দোলন গড়ে ওঠে কাশ্মীর উপত্যকায় যার জের আজ পর্যন্ত চলছে। 

চরম সামরিক আগ্রাসন ও দৈনিক অকথ্য অত্যাচার, গুমখুন, ধর্ষণ ও ব্যাপক হারে ভারত রাষ্ট্রের দ্বারা নিরীহ স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরিদের নরসংহার হওয়া সত্ত্বেও কিন্তু কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার দাবির থেকে, নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির থেকে এক চুলও নড়েননি। প্রতি গ্রীষ্মে বরফ গললে তারা কিন্তু পথে নেমে বিশ্বের চতুর্থ শক্তিশালী সেনা বাহিনীর সাথে হাতে পাথর নিয়ে যুদ্ধ করেন, গুলি বা ছররা খেয়েও তারা গলা ফাটিয়ে ভারতের থেকে স্বাধীনতা চান।

হায়না যেমন লাশের ঘ্রাণ পেয়ে আহ্লাদে আটখানা হয়ে ওঠে, আমাদের পেট ভরে খেতে পাওয়া, মোটা অর্থ আয় করা, সাবর্ণ উচ্চবিত্ত ও শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর তথাকথিত দেশপ্রেমের ধ্বজ্জাধারীরা ঠিক তেমনি কাশ্মীরের মাটিতে সেনা বা আধা বা সিকি সেনার গুলিতে প্রাণ হারানো কাশ্মীরি মানুষের লাশ দেখে সেই রকমই উল্লাস প্রকাশ করে। কাশ্মীরের শিশুর চোখ লক্ষ্য করে ভারত রাষ্ট্র ছররা ছুড়লে তারা হুইস্কির গ্লাসে তুফান তুলে সেই ঘটনা কে স্বাগত জানায়। তারা ক্ষেপে যায় শুধু কাশ্মীরের মানুষ কে পাল্টা প্রতিরোধ করতে দেখলে। তারা রেগে যায় জনগণ কে পাথর ছুড়তে দেখলে। কারণ তখন তাদের জাতীয়তাবাদী অনুভূতিতে সুড়সুড়ি লাগে। 

কাশ্মীরের মাটিতে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার ৩০ বছরে প্রায় ১০০,০০০ মানুষ খুন হয়েছেন, যাদের সিংহভাগ’ই কিন্তু সাধারণ মানুষ। অনেক ভুয়ো এনকাউন্টার, কাস্টডিয়াল ডেথ, গুম খুন করে লাশ গোপন স্থানে কবর দিয়ে দেওয়া, নারীদের সামরিক বাহিনীর দ্বারা গণধর্ষণ করানো, ইত্যাদি, অকথ্য অত্যাচার দীর্ঘদিন ধরে বিরামহীন ভাবে চলছে। তবুও এই রাষ্ট্রীয় হিংসা, রক্তপাত ও নারীর উপর অত্যাচার হিন্দুত্ববাদের গরল পান করা তথাকথিত দেশপ্রেমিকদের উদ্বেলিত করে না। 

তারা প্রশ্ন করেননা ভারতের জনতার রক্ত ঘামের টাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে আদায় করে নিজের রাজত্ব চালানো সরকার কে — যে কেন কাশ্মীরে এত রক্তপাত? কেন গণতান্ত্রিক ভাবে, আলোচনা করে এই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান না খুঁজে শুধুই বন্দুকের নলের থেকে সমাধান বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার? কেন সরকার কাশ্মীরি মানুষদের মানুষ না ভেবে শুধুই বন্দুকের টিপ প্র্যাকটিস করার উপকরণ হিসেবে গণ্য করছে? 

তারা উদ্বেলিত হয় না কারণ তাদের দেশপ্রেম তাদের মতনই ঠুনকো। তাদের দেশপ্রেম অমর শহীদ ভগত সিং, রাজগুরু, সুখদেব, মাস্টারদা সূর্য সেন, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম, ইত্যাদির দেশপ্রেমের মতন সাচ্চা না, বরং হেগড়েওয়ার, গোলওয়ালকার, সাভারকার বা শ্যামা মুখুজ্জ্যে’র মতন নকল দেশপ্রেম, সাম্রাজ্যবাদের জুতো চাটার বহিঃ আবেশ, যাতে তাদের আসল ঘৃণ্য চেহারাটা প্রকাশিত না হয়। 

এরা দেশ বলতে বোঝে এক টুকরো মাটিকে, পাথরকে, পাহাড় আর নদীকে, এরা দেশ বলতে বোঝে দেশের জমি ও সম্পদ কে। দেশের ব্যাখ্যায় এদের অভিধানে মানুষের কোন স্থান নেই। তাই মানুষ কে মেরে ফেলা চলবে তবে জমি এদের চাইই চাই। যখন বিদেশী কর্পোরেশনগুলি ভারতের সম্পদ লুঠ করে নিয়ে যায়, ভারতের মুৎসুদ্দি পুঁজিপতিরা যখন জনগণের করের টাকা চুরি করে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করে, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশী পুঁজির গোলামী করে, তখন এদের দেশপ্রেম ঘুমিয়ে থাকে লেপ মুড়ি দিয়ে। 

যখন কোন বেহায়া হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রাক্তন মহারানী ভিক্টোরিয়া’র জন্মদিন পালন করে তাঁকে দেশের রক্ষাকারী বলে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন কে স্বাগত জানায়, তখন এরাই নির্লজ্জের মতন তাঁকে সাবাস বলে পিঠ চাপড়ায়। অনাহারক্লিষ্ট আদিবাসীরা যখন না খেতে পেয়ে মরে যায় তখন এরা ফাস্টফুড খেতে ব্যস্ত থাকে, যখন রাইফেলের জোরে, রকেট লঞ্চারের জোরে ছত্তিশগড় বা ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের সরকার তাঁদের গ্রাম, জঙ্গল বা জমির থেকে উচ্ছেদ করতে চায়, তখন “উন্নয়নের” ডঙ্কা বাজিয়ে এই অকাল কুষ্মান্ডের দল তা সমর্থন করে। এর ফলেই নির্লজ্জ ভাবে বুক বাজিয়ে কাশ্মীরের জনগণের ওপর চলমান অত্যাচার ও শোষণ কে এরা দুই হাত তুলে সমর্থন করতে পারে আর জনগণের পাল্টা প্রতিরোধ কে, তাদের পাল্টা সংগ্রাম কে ভীষণ ভাবে ঘৃণা করতে পারে, কারণ মানুষ এদের শত্রু আর বৃহৎ পুঁজির ছুড়ে দেওয়া হাড় এদের খাদ্য।

তাই আধা সেনা হত্যার বিরোধিতা করার নাম করে যারা আরো বেশি বেশি করে হিংসা চালাতে চাইছে, যারা সরকার কে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন না করে ঝুটা দেশপ্রেমের জিগির তুলে সরকার বিরোধীদের, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক ও বামপন্থী বিরোধীদের উপর একেবারে পরিকল্পনা করে হামলা করতে শুরু করেছে, তারা কিন্তু আজ দেশের জনগণের, খেটে খাওয়া মানুষের বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছে। 

সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে আরএসএস’র পুষ্যি বাহিনী বিরোধীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে, সিআরপিএফের মৃত জওয়ানদের রেফারেন্স টেনে এনে বাম ও গণতান্ত্রিক বিরোধীদের হিটলারের কায়দায় হত্যা করার ষড়যন্ত্র কে উন্মোচন করছে। তার কারণ হলো এই বিরোধীরা মোদী সরকারের অপদার্থতা কে তুলে ধরে কঠিন প্রশ্ন তুলছেন, খেটে খাওয়া মানুষের খাদ্য-রোজগার-স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সামাজিক সুরক্ষার দাবি তুলে সরকারকে তুলোধুনো করছেন, শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের কথা তুলে উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারের ঝড় কে রুখে দিচ্ছেন। তাই বিরোধীদের দমন করা আজ বিজেপি-আরএসএস ও তাদের পেয়াদাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সামনে কঠিন সময়। উগ্র জাতীয়তাবাদ, যুদ্ধের জিগির আর সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে বিজেপি আগামী নির্বাচনে বিজয় অর্জন করতে চাইবে। তারা চাইবে সমস্ত বিরোধীদের নিস্তব্ধ করে দিয়ে দেশের জনগণের শ্রম, দেশের খনিজ সম্পদ, মাটি, জঙ্গল ও জল বৃহৎ বিদেশী একচেটিয়া পুঁজি ও তাদের দালাল দেশী মুৎসুদ্দি পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দিতে। মোদী চাইবে সাম্প্রদায়িক ভাবে বিভক্ত দেশের জনগণের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে নিজের সিন্দুকে ধনের পাহাড় জড়ো করতে। দেশের মানুষ খেতে চাইলে, রোজগার চাইলেই তাদের পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ দেখানো হবে, দেশপ্রেমের নাম করে রাষ্ট্র প্রেম শেখানো হবে। আর এই সোজা হিসাবটা যদি কেউ জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান তাহলেই তাকে “দেশদ্রোহী” তকমা পেয়ে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে হবে। 

কাশ্মীরি জনগণের উপর চলতে থাকা আক্রমণ কে রুখতে, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মানুষের উপর হতে থাকা আক্রমণ কে রুখতে, দেশের নানা প্রান্তে যুদ্ধ উন্মাদনা  সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে লড়াকু শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের উপর চলমান রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও হিন্দুত্ববাদী আক্রমণ কে রুখতে আজ পথ নিতে হবে সক্রিয় প্রতিরোধের আর তা করতে গেলে প্রথমেই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে রাজনৈতিক ভাবে জাগ্রত করে তাদের নেতৃত্বে উত্তীর্ণ করতে হবে এই প্রতিরোধ সংগ্রামের। 

খাদ্যের দাবি, কর্ম সংস্থানের দাবি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবি, শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন ₹১৮,০০০ করার দাবি, শিক্ষা খাতে জিডিপি’র ১০% বরাদ্দ করার দাবি, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা কে ঢেলে সাজিয়ে জনগণ কে বিনামূল্যে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা দেওয়ার দাবি, দলিত-আদিবাসী-মুসলিম-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের সমান অধিকার ও বৈষম্যহীন সুযোগের দাবি তুলে আজ জনগণ কে তাদের শত্রু মোদী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টেনে আনতেই হবে। একমাত্র শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই পারবে মানুষের জীবন কে যুদ্ধের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ও ভারতবর্ষের মাটিতে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদ কে কবর দিতে। তাই বিলম্ব না করেই বাস্তবের মাটিতে এই লড়াইয়ে মানুষের শত্রু কে পরাস্ত করতে এগিয়ে আসুন, জনতার সাথে একাত্ম হোন আর প্রতিরোধের  রাজনীতি দিয়ে তাদের সৃজনীশক্তি’র বিকাশ ঘটান। 


উনায় দলিতদের মহা সমাবেশ ব্রাক্ষণত্ববাদী শাসকশ্রেণীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল

উনায় দলিতদের মহা সমাবেশ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল মোদী সরকারকে

১৫ই আগস্ট ভারতের নানা প্রান্তে সরকারী উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হলেও আসল স্বাধীনতার পথে পা বাড়ালেন লক্ষ লক্ষ দলিত মানুষ, খাস নরেন্দ্র মোদীর ঘাঁটি আর হিন্দুত্ববাদের গবেষনাগার গুজরাটের বুকে।ব্রাক্ষণত্ববাদী সমাজের অত্যাচার হাজার হাজার বছর ধরে যে দলিতেরা মুখ বুজে সহ্য করে গেছেন আজ তাঁরা আওয়াজ তুলেছেন যে এই অত্যাচার, এই শোষণ আর এই অপমান তাঁরা আর মুখ বুজে মেনে নেবেন না। মনুবাদী সমাজের রক্ষকদের চোখে চোখ রেখে নিজেদের বিদ্রোহী স্পর্ধার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে দলিত জনতা জানান দিলেন যে গুজরাট মোদী বা আরএসএস এর বাপের সম্পত্তি নয়, গুজরাট সমগ্র খেটে খাওয়া গরিব মানুষের, দলিত - মুসলমান আর আদিবাসীদের। যে গুজরাটিরা আজ অবধি গরু কে মাতৃ রূপে পুজো করে এসেছে এবার যেন গরুর শেষকৃত্য তারাই সম্পন্ন করে।

জিগ্নেশ মেভানি ও দলিত প্যান্থারের ডাকে অনুষ্ঠিত হওয়া উনার এই বিশাল দলিত সমাবেশে দলিত জনতা নিজেদের মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অধিকারের জন্যে, সম্মানের জন্যে এসেছিলেন এবং পথে আসতে আসতে এদের বারবার লড়তে হয়েছে হিন্দুত্বের লেংটি পরিহিত বজরং দল ও আরএসএস এর সরকারী সাহায্য প্রাপ্ত নেড়ি কুকুরদের সাথে। বিজেপি আর আরএসএস নানা কায়দায় চেষ্টা করেছিল এই মিছিল কে আটকাতে; এই মিছিলের থেকে দেশের সমস্ত কর্পোরেট সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মোদী নানা নাটক করে নিজের ঝুটো দলিত প্রেম জাহির করে গুজরাটের দলিতদের ঠেকিয়ে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের আগে নিজেদের দলিত প্রেমী সাজাবার চেষ্টা করেছিল, নানা ভাবে দলিত আন্দোলনকারীদের উপর দমন পীড়ন ও ভীতি প্রদর্শন করা হয়, তবুও শেষ লড়াইতে এই সমস্ত বাঁধা বিঘ্নতা টপকিয়ে দলিতদের মিছিল আহমেদাবাদ থেকে উনায় পৌঁছালো। সেই উনা যেখানে গরুর চামড়া ছাড়ানোর কারণে দলিতদের গাড়ির সাথে বেঁধে অমানবিক ভাবে চাবুক ও লাঠি পেটা করেছিল সংঘ পরিবারের কর্মীরা। যাদের এই গতকাল অবধি “গো-রক্ষক” বলে সম্মানিত করতো মোদীর সরকার। চাপে পড়ে যদিও মোদী দলিত ভোটের চিঁড়ে ভেজাতে, বিশেষ করে আসছে বছরের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে, গো-রক্ষকদের সম্পর্কে মেপে মেপে কটু কথা বললো, ভালো আর খারাপ গো-রক্ষকদের পার্থক্য দেখালো, তবুও আজ দলিতদের হিন্দুত্ববাদের ঝান্ডার তলে টেনে আনতে আরএসএস আর নরেন্দ্র মোদী সমান ভাবে ব্যর্থ। বরং উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির দলিত ভোট ব্যাঙ্ক, যা ২০১৪ সালের মোদী হাওয়ায় সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাতেও ভাঙন ধরেছে। গরু আর ব্রাক্ষণত্ববাদী অত্যাচারের কথা ছেড়ে দিলেও এই কিছুদিন আগে যে দয়াশংকর সিংহ নামক রাজপুত ক্ষত্রিয় নেতাকে দলিত নেত্রী মায়াবতীর বিরুদ্ধে জঘন্য মন্তব্য করার জন্যে দল থেকে ছয় বছরের জন্যে বহিস্কার করা হয়েছিল সেই লোকটার সাথে খোলাখুলি বিজেপির সমস্ত নিচু ও মধ্য শ্রেণীর নেতা ও কর্মীদের মাখামাখি এবং দয়াশংকর কে উচ্চ জাতির নায়ক বানিয়ে মাথায় তুলে নাচানাচি দেখে উত্তর প্রদেশের দলিত সমাজ বুঝতে পেরেছে যে তাঁদের মুসলমান বিরোধী বিদ্বেষের মাধ্যমে নিজেদের দিকে টেনে রাখার চেষ্টা যে বিজেপি আর আরএসএস করে তারা আসলে কি চরম ভাবে মনুবাদের দর্শনে বিশ্বাসী, কি চরম দলিত বিরোধী।

আজ ভারতবর্ষ জুড়ে দলিত সমাজ উঠে দাঁড়াচ্ছে। যে অন্ধ্র প্রদেশের বর্তমান রাজধানী হায়দ্রাবাদে দাঁড়িয়ে মোদী সাহেব নাটক করে গো-রক্ষকদের বললে দলিতদের ছেড়ে তাকে গুলি করতে, খুন করতে, সেই অন্ধ্রের মাটিতে গো-রক্ষার নামে দলিতদের উপর আক্রমণ করলো উচ্চ জাতির জোতদারদের ফৌজ। মোদীর ভাষণের পরেও সমগ্র গুজরাট জুড়ে সংঘ পরিবারের গুন্ডাদের দাপাদাপি চললো দলিতদের উনার মিছিলে যাওয়ার থেকে আটকাতে। কিন্তু এত সত্ত্বেও আরএসএস আর মোদী কলকে পেল না। লক্ষ লক্ষ দলিতের কন্ঠে ধ্বনিত হলো উনায় জড়ো হওয়া দলিতদের স্লোগান - “গরুর লেজ তুমি রাখো, আমায় আমার জমি দাও” - অর্থাৎ এবার থেকে আর গুজরাটের দলিতেরা সে সব কাজ করবেন না যে কাজ তাঁদের দলিত বানায়। সারা গুজরাট জুড়ে দলিত সমাজ আর গরুর শেষকৃত্য করবে না, তাঁরা উচ্চ জাতির পায়খানা আর পেচ্ছাপ পরিস্কার করবেন না, তাঁরা আর দলিত থাকবেন না, স্বাধীন মানুষ হবেন। ১৫ আগস্টের দিন যখন সারা দেশ জুড়ে শাসক শ্রেণী ধার্মিক রীতির মতন করে স্বাধীনতা দিবস পালন করে খেটে খাওয়া মানুষ কে জোর করে বোঝাবার চেষ্টা করে যে তাঁরা স্বাধীন ঠিক তেমনি এই বছর থেকে সমগ্র গুজরাট এবং সমগ্র ভারতবর্ষের দলিত ও শোষিত সমাজের কাছে ১৫ই আগস্ট স্মরনীয় হয়ে থাকবে উনা দিবস হিসেবে, সংকল্প দিবস হিসেবে, যতদিন না দলিত সমাজ ও সমগ্র শোষিত জাতি ও সম্প্রদায় ব্রাক্ষণত্ববাদী শোষণের জাঁতাকল ভেঙ্গে মুক্ত না হচ্ছেন।

ভারতবর্ষের দলিত-আদিবাসী-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের উলঙ্গ রূপটি শুধুমাত্র বিজেপি ও আরএসএস এর শাসনকালেই সম্মুখে আসে এবং মিথ্যার সব দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। ভারতের খেটে খাওয়া জনগণ আজ শুধুমাত্র বিজেপির শাসনেই পরিস্কার ভাবে নগ্ন কর্পোরেট ও ব্রাক্ষণত্ববাদী শোষণ কে দেখতে পায়। কংগ্রেসী শাসনে এই নগ্ন কর্পোরেট পুজোটা অনেক ঢেকে ঢুকে ও কল্যাণকারী রাষ্ট্রের ভাওতার আড়ালে হয় আর ব্রাক্ষণত্ববাদ ও হিন্দুত্ববাদ রাতের আঁধারে দাঁত নখ বের করে আক্রমণ করে। বিজেপির বেলায় সেই রাখঢাক করার কোনো দরকার নেই, কারণ রাখ ঢাক করলেই রাষ্ট্র যন্ত্রের মালিক শাসক শ্রেণী পলিসি পারাল্যসিস এর দোহাই দিয়ে সরকার বদল করার ছুতো খুঁজবে।
তাই তো এই কয়েকদিন আগে যে লোকটা চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে দলিত স্বার্থের কথা বলছিল সেই লোকটাই আবার লাল কেল্লার ছাতে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেওয়ার সময়ে খুব সযত্নে দেশ জুড়ে বেড়ে চলা দলিত ও আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের ঘটনাকে এড়িয়ে যায়। এই লোকটার দলের মন্ত্রীরাই এক বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য কে চাপ দিয়ে দলিত ছাত্রদের পড়াশুনায় ছেদ টানে, যার ফলে প্রাণ হারাতে হয় রোহিথ ভেমুলার মতন তরতাজা মেধাবী প্রাণ কে। আর মৃতের মা কে শুনতে হয় নানা ধরনের গঞ্জনা আর গালমন্দ এই বিজেপির খোঁচরদের থেকেই।

উত্তর প্রদেশের ভোটে জিততে বিজেপিকে হাতিয়ার করতেই হবে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গাকে এবং ভালো ভাবে দাঙ্গা লাগিয়ে মানুষের প্রাণ নিতে পটু লোকজনের অভাব মার্কিন পুঁজির পা চাটা কুকুর সংঘ পরিবারের ছাউনিতে কোনদিনই হয়নি। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের মতন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে পিছিয়ে থাকা রাজ্যে দাঙ্গা বাঁধিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণ করা অনেক বছর ধরেই সুবিধাজনক রাজনৈতিক কদম ছিল। দলিত ও শুদ্র জাতির মানুষদের চিরকালই উচ্চ জাতির দাঙ্গাবাজরা নিজেদের পেয়াদা হিসেবে ব্যবহার করেছে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংগঠিত দাঙ্গায়। দলিতদের সেই পদাতিক বাহিনী হিসেবে হিন্দুত্ববাদের কাছে অপরিসীম গুরুত্ব । যদিও দাঙ্গায় পদাতিক বাহিনী হিসেবে কাজ ফুরোলে সেই দলিতের মাথায় জুতো মেরেই ব্রাক্ষণত্ববাদ নিজেকে উচ্চ ও শ্রেষ্ঠ রূপে জাহির করার প্রচেষ্টা করে। দলিতদের মনুবাদীদের ঘুঁটি হিসেবে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় যোগদান করার কারণ সম্পর্কে উত্তর প্রদেশের বহুজন আন্দোলনের জনক কাঁশি রাম বলেছিলেন যে এর শিকড় রয়েছে দলিতদের সাবর্ণ সমাজের উপর আর্থিক ও সামাজিক নির্ভরতার মধ্যে। কাঁশি রামের মতে যেহেতু জমির মালিকানা মূলতঃ উচ্চ জাতির ক্ষত্রিয় ও শূদ্রদের এক অংশের হাতে কুক্ষিগত, ব্যবসা বাণিজ্য যেহেতু বৈশ্য জাতির দ্বারা কুক্ষিগত তাই এদের পক্ষে হয় রোজগারের নামে, বা মদের বোতলের বিনিময়ে, বা দু বেলার আহারের বিনিময়ে দলিতদের মুসলিম নিধন যজ্ঞে নামানো খুবই সহজ। আর উত্তর ভারতে এই কাজটাই আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে জাতিহীন ঐক্যবদ্ধ হিন্দু সমাজের নামে করে চলেছে। তাই যদি মদ আর রুটির হাতছানি সত্বেও দলিত সমাজ হিন্দুত্বের পতাকার তলার থেকে বের হয়ে এসে নিজস্ব স্বাধীন উদ্যোগে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ক্ষমতার লড়াইতে সামিল হয় তাহলে আরএসএস এর মতন শক্তির কাছে তা হবে মৃত্যু পরোয়ানা। কারণ দলিত এবং শূদ্রদের ছাড়া শুধু ব্রাক্ষণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ্য জাতির সম্মিলিত শক্তি দেশের জনসংখ্যার ২৬ শতাংশের বেশি হওয়া মুশকিল। আর এর ফলে আরএসএস ও বিজেপির হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন চিরকালের মতন পাঁকে ডুবে যাবে।

গুজরাটের দলিতেরা অনেক মার খেয়ে, অনেক চোখ রাঙানি, অনেক শাসানি সহ্য করে উনায় মিছিলে যোগ দেন ও সংকল্প নেন এক নতুন বিদ্রোহের। এর ফলে মিছিল থেকে ফেরার পথে পাতিদার ও রাজপুতদের হাতে আক্রান্ত হন দলিত আন্দোলনকারীরা। যেহেতু গুজরাটে দলিতেরা বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক নয় তাই তাঁদের সুরক্ষা দিতে বিশেষ তাগিদ অনুভব করেনি গুজরাট সরকার। আর পুলিশের চোখের সামনে সংঘ পরিবারের কর্মীদের সমর্থনে উচ্চ জাতির সামন্তপ্রভুদের দলিতদের উপর এই আক্রমণ দেশের কর্পোরেট মিডিয়া ঢেকে রাখতে চাইছিল বালুচিস্তান নিয়ে মোদীর বক্তব্যের ঢোল বাজিয়ে। তবুও আগুনের গতিতে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবাদে মুখর হয় দেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলি।

দলিত প্যান্থারের ডাকে এই উনা চলো'র ডাক গুজরাটের দলিত সমাজের কাছে এক আলোড়ন যেমন সৃষ্টি করেছে, তেমনি করে সারা দেশে দলিত আন্দোলনে এখনো প্রভাব ফেলতে পারেনি, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে, যে রাজ্যে মূল ধারার রাজনীতির পাঁকে শাসকশ্রেণীর স্বার্থে দলিত আন্দোলনকে বেঁধে রেখেছেন মায়াবতী। তবুও উনার দলিত আন্দোলনের রেশ এত তাড়াতাড়ি শেষ হওয়ার নয়, কারণ গুজরাট ব্রাক্ষণত্ববাদ ও মনুবাদের এক শক্ত ঘাঁটি আর তীব্র জাতি বিদ্বেষ দ্বারা লালিত পালিত গুজরাটি বৈশ্য জাতি, যা গুজরাটের শাসক জাতি, কোনো ভাবেই দলিতদের ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা কে সহ্য করবে না আর যে কোনো প্রকারে গুজরাটের শূদ্র সমাজকে দলিত আন্দোলনের বিরুদ্ধে চালিত করবে এবং দলিত ও মুসলিমদের মধ্যে যে সংগ্রামী ঐক্য তৈরি হয়েছে তা ভাঙার চেষ্টা করবে। গুজরাটি বৈশ্য জাতি দেশের সর্বশক্তিমান ও সবচেয়ে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল জাতি, যাদের মুঠোয় বড় বড় শিল্প, ব্যবসা, আর লগ্নি পুঁজির ফাটকাবাজি। এর ফলে সরকার যে এদেরই গোলামী করবে তা একটি শিশুও বলতে পারবে। ফলে লড়াই শেষ হয়নি, বরং উনায় ১৫ আগস্ট যে লড়াইয়ের সূচনা হলো তা আগামী দিনে আরো তীব্র হবে এবং এই লড়াইয়ে বিজয় অর্জন করতে হলে দলিত জনতাকে গুজরাটের উচ্চ জাতিগুলোর হাত থেকে আর্থিক ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে হবে, এবং এর একমাত্র পথ হতে পারে এক সার্বিক কৃষি বিপ্লবী সংগ্রাম যা সামন্তপ্রভুদের কবল থেকে জমি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা কেড়ে দলিত গরিব কৃষকদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি কায়েম করবে। এই লড়াই বাদে বাকি সব লড়াইয়ের শেষে আর্থিক ক্ষমতার অভাবে চিরকালই দলিত আন্দোলন সাবর্ণ শাসকশ্রেণীর সম্মিলিত শক্তির সামনে হেরে যাবে। আজ যাতে দলিতদের আর হারতে না হয় তার জন্যে সমগ্র গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে এসে রাজনৈতিক ভাবে সামিল হতে হবে এই লড়াইয়ে এবং এই লড়াইকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

এই ব্লগের সত্বাধিকার সম্বন্ধে