আব্দুল কলাম কে এবং কেন তাকে নিয়ে এত কান্নাকাটি
দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি যে আবদুল কালাম এর মৃত্যুর পর থেকেই তাকে মহাপুরুষ বানিয়ে কর্পোরেট মিডিয়াগুলির দ্বারা ক্রমাগত প্রচার চালানো হচ্ছে যে সে ছিলো দেশের এক মূল্যবান বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সততার প্রতীক ইত্যাদী। তাকে মোটমুটি ভারতের আইনস্টাইন বানানোর প্রক্রিয়া চলছে, গভীরে গেলে দেখা যাবে যে এই প্রক্রিয়া মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের "মেক ইন ইন্ডিয়া" নীতিরই গূঢ় প্রচার। কারণ ভারতের শাসক শ্রেণী যেনতেন ভাবে এটা দেখাতে বদ্ধপরিকর হয়েছে যে ভারত বৈজ্ঞানিক গবেষনায় অনেক আগে অগ্রসর হয়েছে, এবং সম্পুর্ন ভাবে স্বনির্ভরতায় ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে উঠেছে।
একথা সুবিদিত যে ভারত আজ অবধি নিজ মেধা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে কোনও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করতে পারে না। কারণ আমাদের দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সকল ধরনের অস্ত্রশস্ত্র বিদেশী পুঁজির লগ্নি ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। ভারতের মেধা কে বিদেশী একচেটিয়া পুঁজি দীর্ঘ সময় ধরে ক্রয় করে নিজের স্বার্থপূরণের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখে। এই পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই সরকারী চাকুরে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার এর পক্ষে স্বাধীন নীতি প্রয়োগ করে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র বানানো সম্ভব নয়। কারণ ভারতের শিল্প বিকাশ সেই স্তরে বিকশিত হয়নি যে আমাদের দেশের প্রযুক্তি ও কাঁচামাল ব্যবহার করে আমরা স্বাধীন বিকাশের পথে যেতে পারি।
আবদুল কালামের কোনো গবেষণার ভিত্তিতে ডক্টরেট খেতাব জোটেনি, দেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞান শিক্ষা সংস্থা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স তাকে মেধার কারণে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে এবং শেষ পর্যন্ত বিজেপির দাক্ষিণ্য পেয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনেক পরে ব্রিটিশদের এক বিশ্ব বিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট উপাধি সাম্মানিক ভাবে দান করে। তবুও এই সততার প্রতীক রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনেক আগে থেকেই নামের আগে ডক্টর উপাধি ব্যবহার করার থেকে ক্ষান্ত হয়নি। এই দেশের কর্পোরেট মিডিয়াগুলি এই ব্যাপারে কোনদিন কোনো প্রশ্ন তোলেনি, তার কারণ এতে অনেক বেড়ালের ঝুলি থেকে বেড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিলো।
প্রথমত, কালামকে বলা হয় একজন ক্ষেপণাস্ত্র বিজ্ঞানী ও পরমাণু পদার্থবিদ। ঐ দুটোই মিথ্যা. তার কারণ কালাম ছিলো একজন এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার এবং পরমাণু পদার্থবিদ্যায় তার কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলো না। ক্ষেপনাস্ত্র বিকাশের ক্ষেত্রে সে একজন টেক্নোক্র্যট ছিল এবং কালাম ডিফেন্স রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গনাইজেশন বা ডিআরডিও এর শীর্ষ কর্তার পদে সরকারি চাকুরে হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলো। সেই পদে থাকাকালীন স্বাভাবিক ভাবেই সে প্রতিরক্ষা গবেষণার উপর তদারকী করে এবং সব জায়গায় রাজনৈতিক লিংক কাজে লাগিয়ে কৃতিত্ব হাসিল করে।
কালামের সমসাময়িক বিজ্ঞানীরা মনে করেন কালামের কৃতিত্ব ছিল যে কোনও সাদামাটা কাজকে তেরঙ্গায় মুড়ে দেশের শাসক কূলের কাছে এমন ভাবে পরিবেশন করা যেন তা আহামরি কিছু। তার কাজ নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেক সরকারী বিজ্ঞানী যেমন ডিআরডিও'র ক শান্তানাম, ভাবা পরমাণু গবেষনা কেন্দ্রের পি কে আইয়াঙ্গার, পরমাণু শক্তি কমিশনের এইচ এন সেঠনা, প্রমুখরা কালামের কৃতিত্ব নিয়ে বারেবারে প্রশ্ন তুলেছেন কিন্তু সরকারী প্রশ্রয় ও শাসকের প্রীতির ছায়ায় বাস করা কালামের কৃতিত্ব রক্ষা করেছে কংগ্রেস - বিজেপি ও কর্পোরেট মিডিয়া, যারা তার মৃত্যুর পরেই তাকে মহর্ষি বানাতে সচেষ্ট হয়ে উঠেছে।
কালামের মতন একজন "জি হুজুর" রাষ্ট্রপতি দরকার ছিল বিজেপির, কারণ তার পূর্বসুরী কে আর নারায়নন বারেবারে অটল বিহারীর বিজেপি সরকারকে নিজের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে বিধেছিলেন, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির প্রশ্রয়ে যখন আরএসএস - বজরং দলের নেতৃত্বে গুজরাট জুড়ে ২০০২ এ মুসলমান হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় তখন কিন্তু নারায়নন রায়সিনা হিলস থেকে প্রতিবাদ করেছিলেন, যা বাজপায়ী ও আডবানীর আঁতে ঘা দেয়। তাই তারা সাত তাড়াতাড়ি কালামকে উঠিয়ে আনে রাষ্ট্রপতি পদে এবং তার সমর্থনে ও প্রশংসায় কর্পোরেট মিডিয়াগুলিকে দিয়ে কালামের স্তুতি গাইয়ে সারা দেশে তার এক উজ্জ্বল ও সৎ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করে।
বিজেপির মতন কংগ্রেসও কালামের পক্ষে স্তুতি গায় কারণ কালামের চরিত্র ছিল ক্ষমতাশালীদের সাথে দ্বন্ধে না গিয়ে, তাদের অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ না করে, শুধু তাদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের কথা মাফিক কাজ করা। রাজনৈতিক অভিলাষ তার ছিলই এবং একবার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার পরেও সে পুনরায় আবার রাষ্ট্রপতি হতে রাজি হয় জেতার গ্যারান্টির বিনিময়ে। সেই যাত্রায় অবশ্য তার ভাগ্য শিকেয় ছেঁড়েনি।
যাই হোক, আজ এই দেশে কালামকে নিয়ে এত মাতামাতি ও তার মিথ্যা স্তুতি ও বন্দনার পিছনে একটাই কারণ তা হল এই দেশে শাসক শ্রেনীর শিবিরে পরিচ্ছন ভাবমূর্তির নেতার খুবই অভাব, তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত আজ কালামকে সামনে রেখে দেশের যুবদের সামনে একটি আদর্শ স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক শ্রেণী। সেই আদর্শ পুরুষ যে ভিতর থেকে ঠুটো, যার সাহস ছিলনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর, যে শুধু মাত্র শাসকশ্রেনীর ভজনা করে নিজ নাম - যশ -প্রতিষ্ঠা আদায়ের প্রচেষ্টায় সারা জীবন লিপ্ত ছিল। এই আদর্শেই আজ বিজেপি-আরএসএস এবং তাদের প্রভু বিদেশী একচেটিয়া পুঁজি ভারতের যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চায়। তাইতো দেখি এত অতি মাত্রায় কালাম ভজনা।
কালামের সমসাময়িক বিজ্ঞানীরা মনে করেন কালামের কৃতিত্ব ছিল যে কোনও সাদামাটা কাজকে তেরঙ্গায় মুড়ে দেশের শাসক কূলের কাছে এমন ভাবে পরিবেশন করা যেন তা আহামরি কিছু। তার কাজ নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেক সরকারী বিজ্ঞানী যেমন ডিআরডিও'র ক শান্তানাম, ভাবা পরমাণু গবেষনা কেন্দ্রের পি কে আইয়াঙ্গার, পরমাণু শক্তি কমিশনের এইচ এন সেঠনা, প্রমুখরা কালামের কৃতিত্ব নিয়ে বারেবারে প্রশ্ন তুলেছেন কিন্তু সরকারী প্রশ্রয় ও শাসকের প্রীতির ছায়ায় বাস করা কালামের কৃতিত্ব রক্ষা করেছে কংগ্রেস - বিজেপি ও কর্পোরেট মিডিয়া, যারা তার মৃত্যুর পরেই তাকে মহর্ষি বানাতে সচেষ্ট হয়ে উঠেছে।
কালামের মতন একজন "জি হুজুর" রাষ্ট্রপতি দরকার ছিল বিজেপির, কারণ তার পূর্বসুরী কে আর নারায়নন বারেবারে অটল বিহারীর বিজেপি সরকারকে নিজের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে বিধেছিলেন, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির প্রশ্রয়ে যখন আরএসএস - বজরং দলের নেতৃত্বে গুজরাট জুড়ে ২০০২ এ মুসলমান হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় তখন কিন্তু নারায়নন রায়সিনা হিলস থেকে প্রতিবাদ করেছিলেন, যা বাজপায়ী ও আডবানীর আঁতে ঘা দেয়। তাই তারা সাত তাড়াতাড়ি কালামকে উঠিয়ে আনে রাষ্ট্রপতি পদে এবং তার সমর্থনে ও প্রশংসায় কর্পোরেট মিডিয়াগুলিকে দিয়ে কালামের স্তুতি গাইয়ে সারা দেশে তার এক উজ্জ্বল ও সৎ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করে।
বিজেপির মতন কংগ্রেসও কালামের পক্ষে স্তুতি গায় কারণ কালামের চরিত্র ছিল ক্ষমতাশালীদের সাথে দ্বন্ধে না গিয়ে, তাদের অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ না করে, শুধু তাদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের কথা মাফিক কাজ করা। রাজনৈতিক অভিলাষ তার ছিলই এবং একবার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার পরেও সে পুনরায় আবার রাষ্ট্রপতি হতে রাজি হয় জেতার গ্যারান্টির বিনিময়ে। সেই যাত্রায় অবশ্য তার ভাগ্য শিকেয় ছেঁড়েনি।
যাই হোক, আজ এই দেশে কালামকে নিয়ে এত মাতামাতি ও তার মিথ্যা স্তুতি ও বন্দনার পিছনে একটাই কারণ তা হল এই দেশে শাসক শ্রেনীর শিবিরে পরিচ্ছন ভাবমূর্তির নেতার খুবই অভাব, তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত আজ কালামকে সামনে রেখে দেশের যুবদের সামনে একটি আদর্শ স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক শ্রেণী। সেই আদর্শ পুরুষ যে ভিতর থেকে ঠুটো, যার সাহস ছিলনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর, যে শুধু মাত্র শাসকশ্রেনীর ভজনা করে নিজ নাম - যশ -প্রতিষ্ঠা আদায়ের প্রচেষ্টায় সারা জীবন লিপ্ত ছিল। এই আদর্শেই আজ বিজেপি-আরএসএস এবং তাদের প্রভু বিদেশী একচেটিয়া পুঁজি ভারতের যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চায়। তাইতো দেখি এত অতি মাত্রায় কালাম ভজনা।