পুরুষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পুরুষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মালদার কালিয়াচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়াচ্ছে সংঘ পরিবার

মালদার কালিয়াচক অঞ্চলে মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করেছে এবং হিন্দুদের ঘর বাড়ি ভেঙ্গেছে, মন্দির ভেঙ্গেছে, ইত্যাদি বলে সারা দেশে আরএসএস এর প্রচার মাধ্যম ৩রা জানুয়ারী থেকে বিরামহীন প্রচার করতে থাকে। প্রথমত সংবাদ মাধ্যমের খবরের উপর ভিত্তি করে ফেসবুক ও টুইটারে সংঘ প্রচারকরা ঘৃণার বিষ ছড়াতে থাকে, ৩০-৪০,০০০ মানুষের মিছিল কে আড়াই লক্ষ মানুষের মিছিল বলে মানুষ কে বিভ্রান্ত করে। এদের সাথে যোগ দেয় সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সমস্ত প্রচার মাধ্যমগুলি, যেমন জী নিউস এবং তারাও ক্রমাগত বিদ্বেষমূলক প্রচার চালাতে থাকে, কেউ কেউ আবার মালদার ঘটনার সাথে মধ্য প্রাচ্যের আইএসআইএসের তুলনা টানে, এবং বাংলার বাইরের সমস্ত সংঘ প্রচারকরা ক্রমাগত ভাবে বাংলার হিন্দুদের বাঁচানোর জন্যে কুম্ভিরাশ্রু বর্ষন করতে থাকে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়াতে।  

বাংলার প্রধান প্রচার মাধ্যমগুলি এই বিষয়ে সংবেদনশীলতা সহ গভীর সতর্কতার সাথে সংবাদ পরিবেশন করে নিতান্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে।কিন্তু সংঘ পরিবারের বেসরকারী মুখপত্র যুগশঙ্খ ক্রমাগত ভাবে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে আরএসএস ও বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধিকে চরিতার্থ করার রাস্তা করে দিয়েছে, এদের মিথ্যার বেসাতি আজ সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ট বর্তমান পত্রিকাকেও লজ্জা দেবে।  আধুনিক ভারতে ক্ষমতার পদলেহন করে কি করে বহুজাতিক পুঁজির দৌলতে সংবাদ মাধ্যম ব্যবসা করে তার উদাহরণ হলো যুগশঙ্খ।

বাংলা বাদে সমগ্র ভারতের উগ্র দক্ষিনপন্থী সংঘ সমর্থক প্রচার মাধ্যম, সংবাদ মাধ্যম ও ইন্টারনেট এর সংঘ পরিবারের ওয়েবসাইটগুলি রীতিমত বাজার গরম করতে মিথ্যার বৈশ্যালয় চালিয়ে গেছে গত কয়েকদিন ধরে। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলার পূর্বতন সংঘ প্রচারক তথাগত রায়, যিনি ত্রিপুরার রাজ ভবনে রাজ্যপালের গদিতে বসে একদিকে সেই ঔপনিবেশিক পদের লাভ তুলে বিজেপির গোয়েন্দাগিরি করছেন অন্যদিকে সারাদিন টুইটারে ঘৃণার বাণী নিসৃত করে যাচ্ছেন।  তাঁর সাথে যোগ দিয়েছেন বাংলার তপন ঘোষ, যার হাব ভাব দেখলে মনে হবে তিনি যেন সানি দেওলের অনুকরণ, যিনি একা গিয়ে সমস্ত বাংলাদেশী মুসলমানদের শায়েস্তা করে আসবেন। এদের সাথে আছেন ইসরাইলের ওকালতি করা এবং ব্রজেশ মিশ্র ও মোসাদের সাথে মিলে বাজপেয়ীর আমলে ভারত ইসরাইল সমঝোতার মুখ্য হোতা ও সংঘের উগ্র সমর্থক সাংবাদিক কাঞ্চন গুপ্ত, আছেন সংঘের প্রচারক থুড়ি সাংবাদিক অভিজিত ভট্টাচার্য, আছে অসম, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও গুজরাটের সংঘের ইন্টারনেট প্রচারকরা।

তথাগত রায়ের আদেশে তড়িঘড়ি তৈরি হয় উইকিপেডিয়াতে ২০১৬ কালিয়াচক দাঙ্গা ও কালিয়াচক ইসলামিক গুন্ডামি নামক দুইটি পেজ।

             
উইকিপেডিয়ার পেজ গুলি বানায় নিজিল শাহ নামক এক গুজরাটি সংঘ প্রচারক যে সারা জীবন গুজরাট ও মোদী রাজের গুনগান করে উপার্জন করে, যার সাথে বাংলার বা বাঙালির কোনও যোগাযোগ নাই। অন্য পেজটি বানানো হয়েছে অসম বিজেপির পক্ষ থেকে যারা আবার বাংলার মানুষের চেয়ে বেশি বাংলার সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছে।

এই উইকিপেডিয়া পেজ দুটিতে শুধু ঘৃণা ব্যক্ত করা হয়েছে ইসলামের নামে এবং মূল ঘটনার উপর যত না শব্দ খরচা করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি শব্দ খরচা করা হয়েছে ঘটনার ঐতিহাসিক পটভূমি ব্যাখা করতে, যার মূল জায়গা হলো মুসলমান ধর্মগুরু মুহাম্মদকে সমকামী বলে প্রতিপন্ন করা এবং সেই কথাটি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে এই পেজ গুলিতে।

অনেকবার অনুরোধ করা সত্বেও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি এই পেজগুলির বিরুদ্ধে, করা হয়নি কোনও আইনি তদন্ত । যদিও এইরকম তথ্য ভারতীয় দন্ডবিধি অনুসারে ঘৃণা ছড়ানোর কাজ করে, তবুও তথাকথিত মুসলমান দরদী মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করে না কোনও অজ্ঞাত রাজনৈতিক অভিসন্ধির কারণে।  

উইকিপেডিয়া পেজগুলির সাথে সাথে অনেক সংঘ ঘনিষ্ট ওয়েবসাইট ও পোর্টালে বিকৃত খবর প্রকাশ করা হয়, পুরানো ছবি সুপার কম্পস করে প্রকাশ করা হয় মালদার ছবি বলে এবং সর্বোপরি এই সমস্ত কিছুর সাথে চালানো হয় একটি সর্ব ভারতীয় প্রচার যে পশ্চিমবাংলার হিন্দুরা নাকি আক্রান্ত, তাঁরা নাকি তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং এই সব বলা হয় আরএসএস ও বিজেপির পক্ষ থেকে।

এই সময়ে পশ্চিমবাংলায় বিজেপির একমাত্র বিধায়ক শমিক ভট্টাচার্য মালদার কালিয়াচকে গিয়ে গ্রেফতার হন এবং পরে ইংলিশবাজার থানা থেকে রেহাই পান।  মালদার একমাত্র পথ সভায় শমিক ভট্টাচার্য দাবি করেন যে কালিয়াচকের ঘটনার পিছনে বিদেশী শক্তির হাত আছে এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থার দ্বারা ঘটনার তদন্তের দাবি করেন। কিন্তু এর সাথেই বোমা ফাটালেন শমিক ভট্টাচার্য, বললেন যে কালিয়াচকে কোনও প্রকারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি এবং সাম্প্রদায়িক কারণ খোঁজা ভুল হবে। শমিক ভট্টাচার্যের এই বিবৃতির কথা কিন্তু রাজ্য বিজেপি তাদের টুইটার এর পাতায় জেনে শুনে চেপে গেছে কারণ পশ্চিমবঙ্গে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদী হাওয়ায় একটু গ্যাস খেয়ে বিজেপি এখন কলকাতার মসনদ দখল করার স্বপ্নে বিভোর।  এর ফলে যেনতেন প্রকারে বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভা নির্বাচনে বেশি নাম্বার তোলার তাগিদে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিজেপি ও আরএসএস যে ভাবে মালদার কালিয়াচকের ঘটনা কে কেন্দ্র করে দেশ জোড়া এক ঘৃণ্য মেরুকরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা দেখে আমাদের কি হিটলারের আমলের রাইখস্ট্যাগ বিল্ডিং এর অগ্নি সংযোগের ঘটনা মনে পড়ে না? শতাব্দীর বদল হলেও ফ্যাসিবাদীদের চক্রান্তের ধরন ও কার্য প্রণালীতে বিশেষ কোনও পরিবর্তন দেখা যায় না সে কথা বেশ উপলব্ধ হলো।

পশ্চিমবাংলার বিধানসভা নির্বাচনে এবার প্রদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের উপর এক বিরাট গুরু দ্বায়িত্ব এসে পড়বে, তা হলো যেনতেন প্রকারে পশ্চিম বাংলার মাটি থেকে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের অবশিষ্ট কে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেওয়া। বহুজাতিক সংস্থাগুলির চাঁদা নিয়ে যে সমস্ত আরএসএস প্রচারকরা গ্রামে গ্রামে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াচ্ছে  তাদের বাংলা থেকে চিরকালের জন্যে বহিস্কার করে দেওয়ার।  বাংলার মাটিকে, বাংলার ঐতিহ্য কে, বাংলার হিন্দু মুসলমানের ঐক্য কে, বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের ঐক্য কে রক্ষা করে বাংলা বিরোধী হিন্দু ফ্যাসিবাদী বিজেপি - আরএসএস ও মুসলিম মৌলবাদীদের জন্যে বাংলার মাটিকে চিরকালের জন্যে দুর্জয় ঘাঁটিতে পরিণত করার কর্তব্য আজ এক পবিত্র দ্বায়িত্ব হিসাবে বাংলার শ্রমিক - কৃষক ও মেহনতি জনতার কাছে এসেছে, তাঁদের এই সকলকে সাফল্যের সাথে এই মহান দ্বায়িত্ব পূর্ণ করতে হবেই।           
  

আবার মাতৃভূমি - আবার পুরুষদের হিংসাত্মক আক্রমণের শিকার মহিলা যাত্রীরা

আবার মাতৃভূমি লোকাল নিয়ে তুলকালাম কান্ড হল ২৪শে অগাস্ট সকালবেলা। প্রায় ৬ ঘন্টা অবরোধ চললো বনগাঁও - শিয়ালদহ সেকশনে এবং যথারীতি প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকলো। রেলের - আরপিএফ আর রাজ্য সরকারের জিআরপি'র চূড়ান্ত সমন্বয়ের অভাবে শুধু ভুক্তভোগীই হলেন না অসংখ্য অফিস যাত্রী, নির্মম ভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে মার খেলেন অসংখ্য মহিলা। হাবরা, গোবরডাঙ্গা, প্রভৃতি জায়গায় বিজেপির মদতপুষ্ট দুষ্কৃতি বাহিনী এই অবরোধে নেতৃত্ব দেয় এবং পুরুষতন্ত্রের উগ্র জিগির তুলে মহিলাদের বিরুদ্ধে পুরুষ যাত্রীদের ক্ষেপিয়ে তুলে হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালাবার প্রস্তুতি চালায়।

এর আগে আমি "মাতৃভূমি তুমি কার ?" প্রবন্ধে লিখেছিলাম যে হঠাত করে রেল কোম্পানির মাতৃভূমি লোকালে পুরুষ প্রবেশ শুরু করালো কোন উদ্দেশ্যে ? এর পিছনে আমি লিখেছিলাম যে বিজেপির হিন্দু ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুরুষতান্ত্রিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার সুক্ষ প্রয়াস কাজ করছিল। গত সপ্তাহে কলকাতায় মমতা ব্যানার্জীর সাথে বৈঠকের পরে রেল মন্ত্রী সুরেশ প্রভুর দ্বারা রেলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার পরেও যে অশান্তির প্রচেষ্টা চলছিল তা অনেক নিত্য যাত্রীরা আঁচ করতে পারলেও রেল কতৃপক্ষ এই নিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে উদাসীন ছিল। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই বিজেপি সমর্থক কিছু দুষ্কৃতি রেল অবরোধের সাথে সাথে মহিলা নিত্য যাত্রীদের উপর যে আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল তা রেল কোম্পানি জেনেও না জানার ভান করে ছিল।

সোমবার যখন রেল অবরোধ শুরু হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় রড, পাথর, লাঠি নিয়ে ট্রেনের উপর আক্রমণ চালানো হয় পরিকল্পিত ভাবে, তখনও এর পিছনে রেল কোম্পানি বা স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক শক্তিগুলির হাত দেখেনি। হাফ প্যান্ট, গেঞ্জি পরে কিছু লোক স্টেশনে দাঁড়ানো ট্রেনে পাথর ছুড়ছে, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করছে এবং একের পর এক স্টেশনে পরিকল্পিত ভাবে সমন্বয় সাধন করে উত্পাত করছে তখন কি ভাবা চলে যে এই দাঙ্গা হাঙ্গামা একেবারে স্বতস্ফুর্ত। আপিস যাবার তাড়া যখন সোমবার সকালে সাধারণ কর্মচারী - খেটে খাওয়া মানুষদের তাড়া করে তখন রেল অবরোধ করে, দাঙ্গা হাঙ্গামা করে সময় কাটানো কি সেই মানুষগুলির পক্ষে সম্ভব ? নাকি একমাত্র এক শ্রেনীর দুর্বৃত্ত, যাদের পিছনে গৈরিক বাহিনীর মদত আছে শুধু মাত্র তারাই পারে ব্যস্ততার সময়ে রেল অবরোধ করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই করার নামে মহিলাদের উপর অকথ্য অত্যাচার এবং শ্লীলতাহানি করার স্পর্ধা দেখাবার।

এই আক্রমণ ও অবরোধ করা হয়েছে মহিলাদের প্রতি পুরুষের হিংসাত্মক মনোভাব কে চাগিয়ে তুলে বিজেপি - আরএসএস এর নেতৃত্বে হিন্দু ফ্যাসিবাদী ব্রাক্ষণবাদী পুরুষতন্ত্র কে রাজনৈতিক ভাবে প্রসার করার স্বার্থে। যাতে পুরুষ ও নারীদের ট্রেনের অপ্রতুলতার নামে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে, রেলের প্রধান দুরবস্থাকে আড়াল করে, লিঙ্গ ঘৃণার আবহাওয়া সৃষ্টি করতে।  এই অপচেষ্টার বড় শরিক হলো সুরেশ প্রভুর রেল। একদিকে যখন রেল কোম্পানি শিয়ালদহ ডিভিশনে সঠিক ভাবে ট্রেন চালাতে ব্যর্থ উপযুক্ত পরিকাঠামো ও রোলিং স্টকের অভাবে। প্রতিদিন নাকাল হতে হয় অজস্র নিত্য যাত্রীদের, ট্রেনের ভিতর বসা তো দূর দু পায়ে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া দুস্কর হয়ে যায়। এই অবস্থায় যদি কোনও নারী সাধারণ কামরায় প্রবেশ করেন তাহলে তাঁকে চ্যাংরা ও ভদ্রবেশী পুরুষদের কাছে হয় শুনতে হয় যৌনতাযুক্ত ব্যঙ্গ না হয় তাঁদের নিগৃহিত হতে হয় চুপচাপ ভিড়ের মধ্যে কারুর কামনার শিকার হয়ে। যে সমস্ত পুরুষরা আজ মহিলা ট্রেন তুলে দেওয়ার বিজেপির রাজনৈতিক দাবির পক্ষে সাওয়াল করছেন তারা আবার নিজেদের বাড়ির মেয়ে - বউদের ট্রেনে তোলার সময় সবসময় মহিলা কামরায় তুলে দেন। কারণ তারা জানেন যে ওই দেশলাই খোপের মতন মহিলা কামরা ছাড়া নারীদের জন্যে গোটা ট্রেন সুরক্ষিত নয়।

অনেক পুরুষ যাত্রী বা তথাকথিত ট্রেনের কামরার সবজান্তা আঁতেলরা প্রশ্ন করেন মহিলাদের জন্যে এত সুবিধা দেওয়ার কারণ কি , কেউ কেউ আবার বলেন যে বিদেশে নারীদের জন্যে এত কিছু দেওয়া হয় না।  এই প্রশ্নের জবাবে উল্টো প্রশ্নই হতে পারে - যে এই দেশে মহিলাদের আসলে কি সুবিধা দেওয়া হয়েছে ? গুটিকয়েক শহরবাসী মহিলা বাদে কোথায় নারীদের মধ্যে সাক্ষরতা? কোথায় তাঁদের জন্যে কর্ম সংস্থান ? কোথায় তাঁদের জন্যে সামাজিক নিরাপত্তা ? যে দেশে নারীর উপর নিগ্রহের দায় সেই নারীর উপর চাপিয়ে দিতে সমাজ ওস্তাদ, যেখানে মহিলাদের শুধু বাড়িতে বসে রান্না করা, বাচ্চা উত্পাদন করা, এবং পুরুষের যৌন দাসী হয়ে থাকার কথা সমাজ শেখায় - সেই সমাজে মহিলাদের জন্যে একটি ট্রেন আপনাদের চোখে কাঁটার মতন বিধতে থাকে ?
পশ্চিমী দেশে মহিলাদের জন্যে আলাদা ট্রেন বা কামরা থাকে না কারণ সেখানে সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতায় সিদ্ধ পুরুষতন্ত্রের নেশায় বুঁদ হয়ে পুরুষ মানুষ মহিলাদের সাথে অভব্যতা করার সাহস করে না। পশ্চিমী উন্নত দেশে মহিলাদের চাকরি করা বা অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে পুরুষরা বিদ্বেষের চোখে দেখেন না।  তাই ওখানে মেয়েদের জন্যে আলাদা কামরার দরকার হয় না। এ দেশে ততদিন মেয়েদের আলাদা কামরার দরকার পরবে যতদিন এখানে পুরুষ মানুষের চেতনার বিকাশ হবে না। 

মাতৃভূমি লোকাল কে নিয়ে চলমান তুলকালাম আসলে এক গূঢ় রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে পরিচালিত লিঙ্গ বৈষম্যর ভিত্তিতে গড়ে ওঠা হিংসাত্মক লড়াই, যার চরিত্র সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে চরম প্রতিক্রিয়াশীল। এই হিংসাত্মক লড়াই বাঁধানো হয়েছিল সমাজে মেয়েদের প্রতি পুরুষের ঘৃণা, ঈর্ষা ও লালসার চরিত্র কে চাগিয়ে তুলে লিঙ্গের ভিত্তিতে সামাজিক মেরুকরণ গড়ার প্রয়াস নিয়ে। সঠিক ভাবে যদি রাজ্য সরকার এই ঘটনার তদন্ত করায় তাহলে অনেক লুকোনো তথ্য সামনে আসবে।                         

মাতৃভূমি তুমি কার ?

শিয়ালদহ উত্তর ডিভিশনের বনগাঁও ও মেইন লাইনে মাতৃভূমি লোকাল ট্রেনের তিনটি কামরায় পুরুষ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মহিলা ও পুরুষ যাত্রীরা দফায় দফায় ১৯ অগাস্ট বুধবার ট্রেন অবরোধ করেন বামুনগাছি - নিউ ব্যারাকপুর - বিরাটি ইত্যাদী স্টেশনে। ছোড়া হয় ইঁট পাটকেল, পুলিশ এসে লাঠি চালায় এবং অনেক যাত্রী আহত হন, যার মধ্যে কল্যানী দত্ত নামক এক মহিলা যাত্রীর মাথা ফেটে যায় পুরুষ যাত্রীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে। 

এই ঘটনার পর তীব্র বিতর্ক শুরু হয় মাতৃভূমি লোকাল নিয়ে যা পরবর্তিতে পৌঁছে যায় পুরুষ বনাম মহিলাদের নিয়ে বিতর্কে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ভারত, যেখানে আজও আধা সামন্ততান্ত্রিক উত্পাদন সম্পর্ক উপস্থিত এবং মানুষের চেতনার মান পৃথিবীর উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে, সেই দেশে পুরুষদের মধ্যে নারী বিদ্বেষ যে চরমে থাকবে সে কথা যে কেউ হলফ করে বলতে পারবে, এবং এর সাথে যুক্ত হয় পুরুষ শ্রেষ্ঠ হওয়ার ধর্মীয় চেতনা যা পুরুষদের নারী কে শুধু মাত্র একটি যৌন সুখ দায়ক যন্ত্র এবং সন্তান উত্পাদনের যন্ত্র হিসেবে গন্য করতে শেখায় তাদের ছেলেবেলার থেকে। তাই এই দেশে নারীদের জন্যে একটি স্পেশাল ট্রেন অবশ্যই পুরুষদের চোখ কপালে সিটকে তোলে, এবং তাদের বিদ্বেষ বৃদ্ধি করায়।  

যে কোনো শুভ চেতনা সম্পন্ন মানুষ নিশ্চয় বাসে - ট্রামে - ট্রেনে - মেট্রোয় যাত্রা করার সময়ে বা আপিসের টিফিন টাইমে এই রকম আলোচনা শুনেই থেকেছেন, যেখানে একদল পুরুষ এর মধ্যে নারীদের বেশি স্বাধীন হওয়া নিয়ে খেদ প্রকাশ বা তাঁদের জন্যে কোনও সরকারী প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পায়, কিংবা চলে আসে বিকৃত যৌন আবেদনে ভরা কটুক্তি। ঠিক তেমনি মাতৃভূমি লোকাল নিয়ে মহিলাদের আন্দোলন কে ঘিরে তৈরি হলো দুই বিপরীত মত, একদিকে নারীদের পক্ষে নারী সমাজ ও প্রগতিশীল পুরুষ সমাজ এবং অন্যদিকে পুরুষদের পক্ষে প্রতিক্রিয়াশীল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বিক্ষোভ ও অবরোধে সামিল খেটে খাওয়া মহিলাদের উপর এই পুরুষতন্ত্রের গান গাওয়া বীর পুঙ্গবরা শুধু মাত্র পাথর দিয়ে আক্রমণ করলো তাই নয়, নিজেদের সামাজিক - রাজনৈতিক প্রতিপত্তি কায়েম করতে তারা ট্রেনের মহিলা কামরায় ঢুকে শুরু করলো মহিলা যাত্রীদের যৌন হেনস্থা। কোনো মহিলা যাত্রীর ওরনা টেনে বা কারুর গায়ে হাত দিয়ে, বা কারুর শ্লীলতাহানি করে এরা প্রমাণ করার চেষ্টা করলো যে পুরুষ জাত শ্রেষ্ঠ।     

এই সমস্ত অত্যাচার লুণ্ঠনের সময়ে মহিলাদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা, সাধারণ মানুষের করের টাকায় বেতন প্রাপ্ত রেল ও সাধারণ পুলিশ ত্রিসীমানায় ছিল না, এবং তারা এসেও মহিলাদের সম্মান রক্ষার্থে কোনও পদক্ষেপ তো করলোই না বরং বিক্ষোভরত নারীদের উপর লাঠি চালিয়ে এবার নিজেদের বীরপুঙ্গব সাজার অভিলাষ পূর্ণ করার প্রচেষ্টায় মজে উঠলো। মহিলাদের চোখের সামনে স্পস্ট হয়ে উঠলো যে এই রাষ্ট্র মহিলাদের স্বাধীন হতে দেবে না, সে মহিলাদের পুরুষের শাসনের অধীনে রাখার এবং গন্ডিবদ্ধ জীবন কাটাবার জন্যে বাধ্য করবে।  
    

মাতৃভূমি লোকাল মমতা ব্যানার্জির রেল মন্ত্রী থাকাকালীন শুরু হওয়া এক মহিলা স্পেশাল ট্রেন যা নানা রাজ্যের শহরতলির থেকে শহরে কার্য ক্ষেত্রে আসা মহিলাদের জন্যে এক সুবিধাজনক পরিবহণ মাধ্যম, কারণ সাধারণ ইএমইউ ও মেমু ট্রেনে মাত্র দুইটি কম্পার্টমেন্ট মহিলাদের জন্যে হওয়ায় তাঁদের প্রচন্ড কষ্ট করে সেই কামরাগুলিতে যেতে হয় আর নয়তো সাধারণ কামরায় পুরুষদের ভিড়ে পিষ্ট হয়ে যেতে হয়, যে সুযোগে তাঁদের সাথে নানাবিধ দুষ্কর্ম বা যৌন উত্পীড়ন করে কিছু সংখ্যার বিকৃত মানসিকতার পুরুষ যাত্রীরা। তাই মাতৃভূমি লোকাল ট্রেন হওয়ায় অসংখ্য মহিলা উপকৃত হয়েছিলেন এবং তাঁরা এই  ট্রেনে নিরুদ্বেগ হয়ে  যাতায়ত করতে পারতেন।  কিন্তু হঠাত হওয়া রেলের এই সিদ্ধান্তে তাঁদের উপর আবার নেমে আসছে সেই কষ্টকর যাতায়তের খাঁড়া।  কারণ নয়টি কামরার মধ্যে যদি তিনটি কামরা পুরুষদের জন্যে করে দেওয়া হয় তাহলে ছয়টি কামরায় তাঁদের পক্ষে আবার যাতায়ত করা মুশকিল হয়ে যাবে।  এর ফলে মহিলা যাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেন রেলের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে এবং তাঁরা দাবি করেন যে একান্তই যদি রেল কোম্পানি এই নির্দেশ লাগু করতে চায় তাহলে মাতৃভূমি লোকালের কোচের সংখ্যা বারো করে দেওয়া হোক, যাতে অফিস টাইমে পুরুষ ও মহিলা সব যাত্রীরাই একটু স্বাচ্ছন্দে যাতায়ত করতে পারেন।  মহিলা যাত্রীদের এই ন্যায্য দাবিটি পর্যন্ত রেল কোম্পানি নাকচ করে দেয় এই বলে যে সমস্ত স্টেশনে বারো কোচের অনুসারে লম্বা প্ল্যাটফর্ম নেই, অতএব মাতৃভূমি লোকাল কে কোনও ভাবেই বারো কোচের করা চলবে না। 

প্রশ্ন হলো শিয়ালদহ উত্তর ডিভিশনে কি  বারো কোচের ট্রেন চলে না একান্তই ? নিত্য যাত্রীরা কিন্তু মেইন লাইন ও বনগাঁও - বারাসাত লাইনে বারো কোচের ট্রেন নিয়মিত একটা দুটো দেখে থাকেন, যা আশ্চর্যজনক ভাবে অফিস টাইমে কম চলে এবং খালি সময়ে বেশি চলতে দেখা যায়, এবং রেকে কোচের সংখ্যা বৃদ্ধি করে মাতৃভূমি লোকাল কে বারো কোচের করে তুলতে রেল কোম্পানির বিশেষ অসুবিধার কিছু চোখে পরে না, কারণ কয়েকটি মাত্র ট্রেনের জন্যে বাড়তি কিছু কোচ তো তাদের রোলিং স্টকে না পাওয়ার জিনিস নয়।  তবু যখন রেল কোম্পানি এই নিয়ে নাছোরবান্দা, তখন সন্দেহ হয় এই নির্দেশের রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে। 

বর্তমানে রেল কোম্পানি বিজেপি পার্টির সুরেশ প্রভুর অন্তর্গত এবং স্বাভাবিক ভাবে বিজেপি এই কোম্পানির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়াবার সুযোগ খুঁজবে। বিজেপি হল আরএসএস এর গণসংগঠন এবং এর কাজ হলো বিদেশী একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থ কে ভারতের মাটিতে রক্ষা করার স্বার্থে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের সাহায্যে ব্রাক্ষণ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলা, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলি, যেমন মুসলমান - খ্রিস্টান প্রভৃতিকে ভীত সন্ত্রস্ত করা, এবং শোষিত জাতি ও আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের মাত্রা তীব্র করা।  এর সাথে সাথে বিজেপি চরম ভাবে আরএসএস এর নারী বিদ্বেষী ও পুরুষতান্ত্রিক হিন্দু সমাজ ব্যবস্থা কে সমর্থন করে। তারা দেশের সর্ব প্রান্তে যেমন একদিকে ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে এক বিশাল বিভেদ আনতে পেরেছে তেমনি তারা এবার ভারতের পুরুষ সমাজকে পুরুষতন্ত্রের বিষাক্ত চিন্তাধারা দিয়ে উত্তেজিত করে নারীদের উপর নিজ কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্যে উদ্বুদ্ধ করছে। সম্প্রতি বিজেপির সাধু সন্ত নেতারা হিন্দু মহিলাদের মুসলমানদের পরাস্ত করতে দশটি করে বাচ্চা প্রসব করার ডাক দেয়। এই দশ বাচ্চার তত্ব হয়তো বিজেপির পক্ষে উত্তর ভারতের গো বলয়ের গ্রামে গ্রামে উচ্চ হিন্দু জাতিগুলিকে প্রভাবিত করে করা সম্ভব কিন্তু শহর ও শহরতলীতে বসবাসকারী মহিলারা এই দাবি কোনও দিন মানতে চাইবেন না। কারণ চাকরিরত বা ব্যবসায়ী নারীরা সর্বদাই চেষ্টা করেন তাঁরা সমাজে পুরুষের সমান মর্যাদা পান, যা তাঁদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ দিতে চায় না।  তাই এই মহিলাদের বাগে আনতে গেলে পুরুষদের উত্তপ্ত করা দরকার ব্রাক্ষণ ফ্যাসিবাদী চিন্তায় এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে তাদের লেলিয়ে দেওয়া জরুরী। 

তাই রেল কোম্পানির এই সিদ্ধান্ত, তার ফলে ঘটে চলা একের পর এক বিক্ষোভ অবরোধ কে ঘিরে মহিলাদের উপর অত্যাচার যে কোনও কারণ ছাড়াই হচ্ছে এই কথা বিশ্বাস করা কঠিন। হয়তো নিরপেক্ষ তদন্ত হলে স্পস্ট হতো যে যারা মহিলাদের উপর আক্রমণের হোতা  তারা হয় বিজেপি বা তৃণমূলের আড়ে লুকিয়ে থাকা আরএসএস এর জঙ্গি সমর্থক। অথবা তাদের হয়তো ইচ্ছে করেই পয়সা দিয়ে ঝামেলা করতে পাঠিয়েছিল সেই সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি যারা এই দেশে যেনতেন প্রকারে ব্রাক্ষণ ফ্যাসিবাদ কে শক্তিশালী করে বিদেশী একচেটিয়া পুঁজির কারবারকে আরও মজবুত করে দেওয়ার তাগিদে চলছে। হয়তো এই কারণেই যখন মহিলাদের উপর পাথর ছোড়া হচ্ছে বা তাঁদের শ্লীলতাহানি করছে একদল লম্পট লুম্পেন, সেই সময় রাষ্ট্রের বাহিনীর সন্দেহজনক অনুপস্থিতি।  

সমাজের শুভ চেতনাসম্পন্ন পুরুষ ও মহিলাদের আজ এটা উপলব্ধি করা দরকার যে ভারতীয় সমাজের পরিপ্রক্ষিত অনুসারে নারী এ দেশে পরাধীন ও শোষিত। তাঁর স্থান এই সমাজের রীতি -নীতির হিসেবে শুধু মাত্র একটি যৌন দাসীর এবং তাঁর সমগ্র জীবন অন্যের গোলামী করে কাটে।  তাই নারী স্বার্থ কে রক্ষা করা এই দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মানুষের কর্তব্য। যে কোনও ঘটনা যা নারীকে আক্রমণ করে, তাঁর সম্মান হানি করায় বা তাঁর উদ্দ্যেশে এমন কটুক্তি করায় যা তাঁর মর্যাদাকে আঘাত করে, তা অন্যায়, এবং তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের রাস্তায় চলা আজ আমাদের জরুরী কর্তব্য।  

মাতৃভূমি লোকাল নিয়ে রেলে হিংসার ঘটনা আমাদের চোখের সামনে তুলে আনলো যে নারী এই সমাজে কি ভাবে নিজ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং পদে পদে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের রক্ষকদের হাতে আক্রান্ত হয়। 
মাতৃভূমি কার ? সে কি নারীর না পুরুষের ? সে কি আমার না তোমার ? মাতৃভূমি তো মা থেকেই এসেছে, যে মা নারীত্বের প্রতীক। সেই মা কে যে অসম্মান করে সে কি কোনও ভাবে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য ? তাই আজ সোচ্চার হয়ে বলিষ্ঠ ভাবে ঘোষণা করতে হবে যে এই মাতৃভূমি, যা প্রজনন করে জীবন কে, তা নারীর একান্ত আপন।  সে ভাগ করে নেয় পুরুষের সাথে তাঁর আকাশ এবং ওই অর্ধেক আকাশের অধিকারিনী হয়ে তাঁকে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দিতে হবে, তাঁর উপর পুরুষের আধিপত্য কে ধ্বংস করতে হবে, তাঁর মুক্তির জন্যে চলমান সংগ্রামে তাঁকে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ যতদিন নারী স্বাধীন হবে না ততদিন সমাজ মুক্ত হবে না। 



         

         

     

এই ব্লগের সত্বাধিকার সম্বন্ধে